|
Chalar Sathi |
|
|
|
Page 2 of 2
সঞ্চয় ও সেবা
সঞ্চয় করিও--কিন্তুসেবার জন্য ! তোমার সঞ্চয় যদি সেবাকেই পূজা না করিল, নিশ্চয় জানিও--উহা যাহা বর্দ্ধনকে ক্ষুন্ন করে তাহারই জন্য !
সেবাহীন শুশ্রূষায়
সেবা মানে তাহাই-- যাহা মানুষকে সুস্থ,স্বস্থ, উন্নত ও আনন্দিত করিয়া তোলে;আর, তাহা হয় না অথচ শুশ্রূষা আছে, সে সেবা অপলাপকেই আবাহন করে !
শয়তানী অহংএর নিয়ন্ত্রনে
তোমার অহঙ্কার যখনই অন্যকে খাটো করিয়া বা অস্বীকার করিয়া নিজেকে প্রতিষ্ঠা করিতে চায়, তখনই তাহাকে শয়তানী অহং বলিয়া চিনিও;--তুমি অহংকে এমনভাবে নিয়োজিত করিও--যাহাতে তাহাকে চালনা করিয়া তোমার পারিপার্শ্বিকের জীবন,যশ ও বৃদ্ধিকে আমন্ত্রন করিতে পার !
ভালবাসা--বিপরীত সংঘাতে
ভাব, ভক্তি, ভালবাসা যদি তার বিপরীত সংঘাতে উদ্দামই না হইল,---তবে তা' আদৌ ছিল কিনা সন্দেহযোগ্য বটে !
যাজনের-অপ্রবৃত্তিতে জ্ঞান ও বোধের দীনতা
যখনই দেখিবে তোমার যাজন-প্রবৃত্তি দীন হইতেছে বা থামিয়া গিয়াছে, ঠিক বুঝিও-- তোমার অন্তরের বোধ ও উপভোগ দিন দিন স্থবির হইয়াছে ও হইতেছে !
বহুরূপী কাম
না-পাওয়া যেখানে তোমাকে ক্ষুন্ন করে, যাহার বৃদ্ধি তোমাকে অবসন্ন করে,--অন্যের প্রতি আদরে তোমাকে উদ্বিগ্ন করে,--অথচ আসক্তি, অনুরক্তি তোমাকে লেলিহান করিয়া তুলিয়াছে, বুঝিও সেখানে প্রেম নাই, আছে বহুরূপী কাম !
যাজনে বৃদ্ধি ও অপলাপে
যাহাকে যাজন করিবে তাহাই বৃদ্ধি পাইবে,--তাই, নজর রাখিও, যাহাতে জীবন ও বৃদ্ধির অপলাপ আনিয়া থাকে-- তোমার যাজন-প্রবৃত্তিকে কিছুতেই সে-দিকে চালনা করিও ণা;-- মরিও না ও মারিও না !
ভাব---চরিত্রে ও চলনে
যেমনতর ভাব যখন যেমনভাবে তোমাতে অধিষ্ঠিত থাকিবে, তোমার চিন্তা, চলন ও ভাষা সাধারণতঃ তেমনতরই হইবে;-- আর, ইহা যতই উন্নত হইয়া তোমাতে সমাহিত থাকিবে, তোমার চিন্তা, চলন ও ভাষাও তেমনতর উন্নত ধরনের হইবে !
সত্য ও মিথ্যা
যাহার অস্তিত্ব ও বিকাশ আছে, আর যাহা, থাকাটাকে অক্ষুন্ন রাখিয়া উন্নয়নে পরিচালিত করে,--এমন-কি, আর কোন থাকার বিচ্ছেদ বা বিরতি আনে না তাহাই সত্য;-- আবার, যাহাতে এই থাকাকে ক্ষুন্ন করিয়া তুলিয়া অন্যের থাকার বিক্ষেপ বা অপলাপ ঘটায়--তাহাই মিথ্যা !
আধ্যাত্মিকতা
অস্তিত্বে গ্রথিত হইয়া বা অস্তিত্বকে অধিকার করিয়া যে ভাব তদদ্বারা অনুপ্রাণিত ও নিয়ন্ত্রিত হইয়া চিন্তা, চলন ও কর্ম্মে প্রতিফলিত হয় তাহাই বস্তুতঃ আধ্যাত্মিকতা !
কর্ম্মপ্রেরণার অনুপূরণে আধ্যাত্মিকতা
যেখানে আধ্যাত্মিকতা অর্থাৎ being কে ( সত্তা বা জীবনকে ) basis (ভিত্তি) করিয়া কিছু নাই, অথচ কর্ম্মপ্রাণতা আছে,--তাহা যেমন কাহাকেও প্রতিষ্ঠা বা সার্থক করে না,--তেমনি আধ্যাত্মিকতা আছে অথচ কর্ম্মপ্রেরণা নাই,--- তাহাও কাহাকে ধন্য বা নন্দিত করে না !
ঋষি
যিনি বৃত্তিগুলিকে গমন করিয়া, অর্থাৎ, বৃত্তিগুলিকে জানিয়া, তাহাদের সমাবেশ ও সমাধান করিয়া,একে সার্থক করিয়া তুলিয়া নিজ মনকে ত্রান করিয়াছেন, তিনিই ঋষি,-- তাই "ঋষয়ো মন্ত্রদ্রষ্টারঃ"!
পরবর্ত্তীতে পূর্ব্ববর্ত্তী
যেখানে পরবর্ত্তী পূর্ব্ববর্ত্তীকে প্রতিষ্ঠা করিয়া তাহার উৎকর্ষে অনুপ্রেরিত, ঠিক বুঝিও--এ সেই প্রেরণা যাহা পূর্ব্ববর্ত্তীর সংঘটন ঘটাইয়াছিল !
ধর্ম্ম ও অধর্ম্ম
ধর্ম্ম মানে তাই যাহা নাকি থাকা ও বৃদ্ধিকে পাওয়াকে জীবন, যশ ও উন্নতিপ্রবণতার সহিত একতানে, বাঁধিয়া, ধরিয়া রাখিয়া অমৃতকে আলিঙ্গন করায়;--আর, যাহা এইগুলির অপলাপ ঘটাইয়া সঙ্কোচ, অবসন্নতা ও অধঃপতনের পথে লইয়া মরণকে স্পর্শ করাইয়া দেয়-- তাহাকেই অধর্ম্ম বলা যায় !
|
|